• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ছে ৯৫ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

দেশের পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আগামী অর্থবছরের বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের বাড়তি মনোযোগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৬৫ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, জনসেবামূলক অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা। পাশাপাশি আবর্তক ও মূলধন ব্যয়ের জন্যও পৃথক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও যোগাযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও রয়েছে।

এ ছাড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

কৃষি, বনজ সম্পদ ও বৃক্ষরোপণভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয়মুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরবেন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বাড়তি এই বরাদ্দ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...