• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

পিঠে সুড়সুড়ি দিলেই মিলবে ঘণ্টায় ৯০০০ টাকা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

কাজটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবে এটি এখন বেশ জনপ্রিয় একটি পেশা। সামান্য পিঠে সুড়সুড়ি দিলেই মিলছে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক- ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই অভিনব পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’, আর যারা এই কাজ করেন তারা পরিচিত ‘স্ক্র্যাচ থেরাপিস্ট’ নামে।

অনেকেরই মনে পড়তে পারে হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস লিলুয়া বাতাস-এর কথা, যেখানে বিনিময়ের শর্তে পিঠে সুড়সুড়ি দেওয়ার এক মজার বর্ণনা ছিল। গল্পে যা কল্পনা মনে হয়েছিল, সেটাই এখন বাস্তব জীবনে পরিণত হয়েছে।

স্ক্র্যাচ থেরাপি মূলত এক ধরনের রিল্যাক্সেশন থেরাপি। এতে থেরাপিস্ট খুব হালকা ও মোলায়েমভাবে আঙুলের নখ ব্যবহার করে গ্রাহকের পিঠে বা শরীরে আলতো স্পর্শ করেন। এই স্পর্শ স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমও এনে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হালকা সুড়সুড়ি মস্তিষ্কে আনন্দের সংকেত পাঠায়। ফলে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ভালো লাগার হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং দ্রুত আরাম অনুভব করায়।

বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এই থেরাপির ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে। বিউটি স্টুডিও, স্পা ও সেলুনে আলাদা সেশন হিসেবে স্ক্র্যাচ থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি ম্যাসেজ বা ফেসিয়ালের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই পেশায় আয়ও কম নয়। অভিজ্ঞ স্ক্র্যাচ থেরাপিস্টরা ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। তবে কাজটি শিখতে হলে প্রশিক্ষণ জরুরি। নিউ ইয়র্কে অনলাইন ও অফলাইন- দুই ধরনের কোর্সই রয়েছে, যার খরচ প্রায় ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা।

প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় স্বাস্থ্যবিধির ওপর- পরিষ্কার নখ, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম, ত্বকের সুরক্ষা এবং গ্রাহকের আরাম নিশ্চিত করার কৌশল শেখানো হয়।

যদিও এই থেরাপি মূলত পিঠে প্রয়োগ করা হয়, তবে প্রয়োজনে শরীরের অন্যান্য অংশেও এটি করা যায়। লক্ষ্য একটাই- মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর ও মনকে সম্পূর্ণভাবে শিথিল করা।

সব মিলিয়ে, অদ্ভুত শোনালেও স্ক্র্যাচ থেরাপি এখন অনেকের কাছে লাভজনক ও চাহিদা সম্পন্ন একটি পেশা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো এটি আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...