• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার : তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

দিন আগেই মাকে হারিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবা ও নির্বাসিত জীবনে হারিয়েছেন একমাত্র সহোদরকে। প্রায় সব আপনজন হারিয়ে এবার পুরো বাংলাদেশকেই নিজের পরিবার অ্যাখ্যা দিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আজ মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করে গেছেন। আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার গভীরভাবে অনুভব করছি। যেখানে মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে চেষ্টা করব সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
তবু এ কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি। অগণিত নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকেই তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান এবং সেজন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এ সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। শোকের এ মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে। আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি :
যেখানে আমার মায়ের পথচলা  থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করব সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষনিশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা জুগিয়েছে। আল্লাহ যেন আমার মায়ের রূহকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
তার জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...