আসন্ন নির্বাচনে কেউ যদি কেন্দ্র দখল কিংবা ব্যালটে সিল মারার ষড়যন্ত্র করে থাকেন, তবে সেই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিয়ে জনগণের প্রকৃত বিজয় নিশ্চিত করা হবে। ১০ দলীয় জোটের এই প্রার্থীর দাবি, তাদের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভীত হয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর ও ভাটারার বাঁশতলা এলাকায় ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শাহজাদপুরে এবং এর আগে সকালে বাঁশতলায় গণসংযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, বন্দুকের গুলি খেয়েও তারা পিছু হটেননি, তাই ভোটকেন্দ্র থেকেও পিছু হটবেন না। এক ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে অন্য ফ্যাসিবাদ বা চাঁদাবাজ-ভূমিদস্যুদের পুনর্বাসিত করতে এত মানুষ জীবন দেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-১১ আসনের স্থানীয় সমস্যাগুলোর কথা উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক জানান, এই এলাকার প্রধান সংকটগুলো হলো ট্রাফিক জ্যাম, গ্যাসের অভাব এবং চাঁদাবাজি। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দশ দলীয় ঐক্য সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা মাঠ থেকে সরি নাই, আমাদের মাঠ থেকে সরানো যায় নাই। জীবন থাকতে মাঠ থেকে সরবো না।’
নির্বাচনে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি গণভোট প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই ছাত্রনেতা। তিনি জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ মানেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সংস্কার, সুশাসন ও সার্বভৌমত্ব। সংবিধান পরিবর্তন করে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ভাটারার সমাবেশ শেষে রামপুরা অভিমুখে একটি গণমিছিল বের করা হয়, যেখানে এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসমাবেশেও বক্তব্য রাখেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলেছেন, নির্বাচনের পর তারাই বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করেছেন। মানুষ এখন আর এসব মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে না; তারা ফ্ল্যাট নয়, নিরাপদ জীবন চায়।
ফ্যামিলি কার্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, দুই-তিন হাজার টাকার কার্ড কারা পাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই কার্ড পেতে আবার ঘুষ দিতে হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা জনগণের টাকা লুট করেছে, তাদেরই আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে তিনি জানান, কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিলে তা সহ্য করা হবে না। কমিশনকে অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।