শরীয়তপুরের জাজিরায় সরকারি অফিসের সময়সূচি মেনে ও নামের পাশে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসাবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন মো. মাসুদ রানা নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে পল্লি চিকিৎসক দাবি করলেও তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই। উল্টো একটি ‘ম্যাজিক মেশিন’ (অনুমোদনহীন রোগ নির্ণয় যন্ত্র) রোগীর শরীরে ঠেকিয়ে ‘আলাদীনের চেরাগের’ মতো মুহূর্তেই সব রোগ বলে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাজিরার নাওডোবায় মাসুদ রানার চেম্বারে সরেজমিনে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র দেখতে পায় আরটিভি টিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাজিরার নাওডোবার আলম ব্যাপারীর প্রজেক্টের ভেতরে একটি আবাসিক এলাকার বাসা ভাড়া নিয়ে এই কাজ করছেন মাসুদ। বাসার একপাশে করা হয়েছে রোগী দেখার চেম্বার এবং অন্যপাশে গড়ে তোলা হয়েছে ফার্মেসি।
এর আগে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় প্রথম চেম্বার খোলেন তিনি। সেখানে অনুমোদনহীন মেশিন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রশাসন তাকে জরিমানা করে এবং তার মেশিন জব্দ করে। এরপর জাজিরায় গিয়ে আবারও একই পন্থায় প্রতারণা শুরু করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুয়া ডাক্তার মাসুদ রানাকে দেখাতে অসংখ্য রোগী ৫০০ টাকা করে ভিজিট দিয়ে টোকেন হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তবে চেম্বারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় ভেতরের চিত্র। রোগীদের রেখেই তড়িঘড়ি করে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ রানা।
একপর্যায়ে কৌশলে চেম্বার থেকে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ক্যামেরার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন তিনি।