রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে ওই বিএনপিকর্মীকে গুলি করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহত বিএনপিকর্মীর নাম নাছির উদ্দীন (৫৫)।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে ওই বিএনপিকর্মীকে গুলি করে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহত বিএনপিকর্মীর নাম নাছির উদ্দীন (৫৫)।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, রাতে কালবৈশাখী ও বৃষ্টির পর ওই এলাকায় নাছির নামের একজনকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নাছিরকে রাউজান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।
তিনি জানান, নাছির উদ্দিন একসময় যুবদলকর্মী ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপিকর্মী।
রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাজান বলেন, রাতে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার পেটে, পায়ে ও শরীরে ৯-১০টি গুলি লাগে। তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। তখন তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল।
জানা যায়, গত ৮-৯ মাস আগেও নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তখন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে কেউ বাঁচবে না বলে ধারণা করলেও দীর্ঘদিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে তিনি আরেক হামলায় নির্মমভাবে খুন হলেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিনও এলাকায় মাটিকাটাসহ নানা অপরাধে জড়িত। তাকেও এলাকার লোকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে মনে করতো।
রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছেন, নাছিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৬টি মামলা রয়েছে। নাছির একসময় এনডিপি করতেন।
এর আগে, গত শুক্রবার রাতে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামের এক বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার ৩ দিন না যেতেই নাছির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হলো।
রাউজানে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামের এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে, ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দুই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।