প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রোজা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও দাম্পত্য মিলন থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগেরকার মানুষদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।
রোজা রাখা যেমন ফরজ, তেমনি রোজার নিয়ত করাও ফরজ। নিয়ত ছাড়া দিনভর না খেয়ে থাকলেও রোজা হবে না। তাই সঠিক পন্থায় বিশুদ্ধভাবে নিয়ত করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি আমলের সওয়াব নিয়ত অনুযায়ী হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১)
কখন নিয়ত করতে হবে?
ফরজ রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগে রাতে করাই উত্তম। রাতে নিয়ত করতে না পারলে দিনে সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৭)। প্রতিটি রোজার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করতে হবে। একবারের নিয়ত রমজান মাসের সব রোজার জন্য যথেষ্ট নয়।
নিয়ত হলো মনে মনে সংকল্প করা, দৃঢ় ইচ্ছা করা। রোজা রাখার ক্ষেত্রে মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যকীয় নয়। কেউ যদি সাহরি খাওয়ার সময় মনে মনে বলে, ‘আমি আগামীকাল রমজানের রোজা রাখব’—এতটুকু বলাই রোজার নিয়তের জন্য যথেষ্ট। সূর্যোদয়ের আগেই রোজার নিয়ত করা উত্তম। পরেও করা যাবে। তবে কোনোভাবেই সেটা যেন সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত সময়ে না গড়ায়। ( আল-বাহরুর রায়েক, ২/৪৫২)
আমাদের দেশে অনেকে আরবিতে নিয়ত করতে অভ্যস্ত বা আরবিতে নিয়ত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়। এটাকে জরুরি মনে করা বাড়াবাড়ি। কারণ, এ দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের থেকে বর্ণিত নেই। হাদিস ও ফিকহার কোনো কিতাবেও নেই।
রোজার প্রচলিত আরবি নিয়ত
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক, ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি, ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
মনে রাখতে হবে, উল্লিখিত আরবি নিয়তটি করার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই সূর্যোদয়ের পর করা যাবে না। কারণ, এই আরবি নিয়তে ‘ নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল’ শব্দের অর্থ ‘আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।’ সূর্যোদয়ের পর এই নিয়ত করলে রোজা হবে না। কারণ, আপনি যদি শুক্রবারে রোজা রাখার জন্য সূর্যোদয়ের পর এভাবে আরবি বলে নিয়ত করেন, তা হলে আগামীকাল দিয়ে এখানে শনিবার বুঝাবে। সুতরাং সবচেয়ে উত্তম হলো, সাহরি খাওয়ার সময় রোজা রাখার সংকল্প করা। বাংলায় সহজভাবে নিয়ত করা।