• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

সড়ক ছাড়াই ৮ কোটি টাকার সেতু

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৬০ মিটার দীর্ঘ সেতু। তবে এর দুপাশে নেই সংযোগ সড়ক। সেতুর এক পাশে ফসলি জমি, অন্য পাশে বসতঘর। অনেক উঁচুতে নির্মিত হওয়ার দরূণ সেতুটি ব্যবহার করতে পারে না স্থানীয়রা। বাধ্য হয়ে কাঠের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে স্থানীয়রা। যার দরুন ছোটখাটো দূর্ঘটনা নিয়মিত লেগে আছে। এ চিত্র ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর গ্রামের সংযোগ সেতুর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর দুই গ্রামের সংযোগ সৃষ্টির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। টেন্ডারের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের কাজ পায় স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির উপরের নির্মাণকাজ শেষ করে তারা। কিন্তু এর একপাশে কৃষিজমি ও অন্যপাশে ঘরবাড়ি থাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার কারনে সেতুটির সড়ক সংযোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে স্থানীয়রা দাড়িয়ে থাকা সেতুটির দুই পাশে কাঠ ও বাশের মই দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করে। যার কারনে নিয়মিত দূর্ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষক কবির আহমদ বলেন, সেতু নির্মাণ হওয়ার খবরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ হয়নি। এতে সেতুটি আমাদের কোনো কাজে লাগছে না। কাঠের উপর দিয়ে সেতুতে দিয়ে চলাচলের সময় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত সেতুটির দুই পাশে সড়কর সংযোগ চাই।
স্থানীয় দোকানী নুর নবী বলেন, উন্নয়ন করতে গিয়ে আমাদের আরও ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে নদী ভাঙনে আমাদের অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এরপরও যদি সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক থাকতো তাহলে পায়ে হেঁটে চলাচল করা যেত। কিন্তু সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এখন আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার বলেন, আমরা জানি না কীভাবে প্রকৌশলী এত উঁচু ও সড়কর সংযোগ না দিয়ে সেতুর অনুমোদন করলেন। বর্ষার আগে দুপাশের সড়ক নির্মাণ না হলে মাতুভূঞা ও বেকের বাজারগামী লোকজন ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ জানান, শুরুতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা না গেলেও পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হযে যায়। এখন নতুন করে সময় বাড়ানোর জন্য এলজিইডির চিপ ইঞ্জিনিয়ার সচিব মহোদয় বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এটি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। যদি সময় বৃদ্ধি করা যায় তবে দ্রুতই এর বাকী নির্মান কাজ শুরু করা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম জানান, সড়ক না থাকলে সেতুটি জনগণের কোনো উপকারে আসবে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আমার জানা মতে ব্রীজ নির্মান প্রকল্পটি বন্ধ রয়েছে। অন্য কোন উপায়ে ব্রীজটি করা যায় কিনা এ বিষয়ে চেষ্টা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...