• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ড নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : আমান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

রানা আহমেদ: 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। হাসান মোল্লাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা তারই নির্মম প্রমাণ। ভোটের মাঠকে অশান্ত করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করাই এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। তবে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে জনগণকে রুখে রাখা যাবে না।

রবিবার বিকেল ৫টার দিকে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাসান মোল্লার জানাজার নামাজে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আমানউল্লাহ আমান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সবাই যেন শহীদ হাসান মোল্লার পরিবারের জন্য দোয়া করেন, যাতে তারা এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেউ ভয় পাবেন না। ভয়কে জয় করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণই বিএনপির মূল শক্তি। সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জানাজার নামাজে ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমিসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

হাসান মোল্লার ছেলে বাধন মোল্লা বলেন, আমার বাবার কোনো শত্রু ছিল না। যারা এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হাসান মোল্লার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হাসান মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি তার পেটের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...